Mirzapur: The Movie Review: ‘ভৌকাল’ ফিরল বড় পর্দায়, কিন্তু কতটা জমল মির্জাপুরের গল্প?
পুরনো জাদু কি ফিরল?
গুলি, গালি, প্রতিশোধ আর ক্ষমতার লড়াই—‘মির্জাপুর’ মানেই এই চার উপাদানের দাপট। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যে দুনিয়া দর্শকদের একসময় মন্ত্রমুগ্ধ করেছিল, এবার সেই দুনিয়াই হাজির বড় পর্দায়। ‘Mirzapur: The Movie’ তাই শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়, সিরিজপ্রেমীদের কাছে অনেকটা পুরনো পরিচিত চরিত্রগুলোর সঙ্গে নতুন করে দেখা হওয়ার মতো।
কালীন ভাইয়া, গুড্ডু পণ্ডিত, মুন্না ত্রিপাঠী—পরিচিত মুখগুলোকে বড় পর্দায় দেখার উত্তেজনা সিনেমার শুরু থেকেই অনুভব করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হল, সিরিজের সেই ম্যাজিক কি সিনেমার ক্ষেত্রেও একইভাবে কাজ করল?
গল্প: ক্ষমতার লড়াই আরও বড়
‘Mirzapur: The Movie’-র গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে সেই চেনা ক্ষমতার খেলা। মির্জাপুরের সিংহাসন দখলকে ঘিরে পুরনো হিসেব, প্রতিশোধ এবং নতুন সংঘাত একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
ছবির গল্প সিরিজের দুনিয়াকে মাথায় রেখেই এগিয়েছে। ফলে যারা আগের তিনটি সিজন দেখেছেন, তাঁদের কাছে চরিত্রগুলোর আবেগ, সম্পর্ক এবং সংঘাত অনেক বেশি পরিষ্কার হবে।
তবে সিনেমাটি শুধুমাত্র পুরনো গল্পকে পুনরাবৃত্তি করেনি। নতুন পরিস্থিতি এবং নতুন চরিত্রের মাধ্যমে গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা রয়েছে।
কালীন ভাইয়া এখনও ‘ভাইয়া’
পঙ্কজ ত্রিপাঠীর কালীন ভাইয়া চরিত্রটি ‘মির্জাপুর’-এর অন্যতম প্রাণ। বড় পর্দাতেও সেই দাপট একটুও কমেনি।
তাঁর অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হল - অতিরিক্ত নাটকীয়তা ছাড়াই তিনি একটা চরিত্রকে ভয়ংকর করে তুলতে পারেন। সংলাপের আগে তাঁর চোখের অভিব্যক্তিই অনেক সময় বেশি কথা বলে।
কালীন ভাইয়ার উপস্থিতি যখনই পর্দায় আসে, দর্শক বুঝতে পারেন - এবার পরিস্থিতি বদলাতে চলেছে।
গুড্ডু পণ্ডিতের রাগ ও প্রতিশোধ
আলি ফজল গুড্ডু পণ্ডিত হিসেবে আবারও নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। আগের গল্পের অভিজ্ঞতা তাঁর চরিত্রকে আরও পরিণত এবং একই সঙ্গে আরও হিংস্র করে তুলেছে।
অ্যাকশন দৃশ্যগুলিতে তাঁর পারফরম্যান্স যথেষ্ট শক্তিশালী। চরিত্রটির রাগ, জেদ এবং ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই ছবির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মুন্না ভাইয়ার উপস্থিতি
দিব্যেন্দুর মুন্না ত্রিপাঠী ‘মির্জাপুর’-এর অন্যতম আইকনিক চরিত্র। তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই নস্টালজিয়া তৈরি করে।
মুন্নার চরিত্রের পাগলামি, আগ্রাসন এবং অদ্ভুত হাস্যরস এখনও দর্শকদের বিনোদন দেয়। বড় পর্দায় এই চরিত্রকে ঘিরে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ছবির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
রবি কিশনের চমক
রবি কিশনের চরিত্র ছবিতে নতুন এনার্জি যোগ করেছে। তাঁর সংলাপ বলার ধরন এবং স্ক্রিন প্রেজেন্স বেশ নজরকাড়া।
বিশেষ করে যেখানে গল্পের গতি কিছুটা কমে যায়, সেখানে তাঁর উপস্থিতি দৃশ্যগুলিকে আবারও আকর্ষণীয় করে তোলে।
অ্যাকশন: বড় পর্দার জন্য তৈরি
‘মির্জাপুর’-এর অ্যাকশন বরাবরই রাফ এবং র’—সিনেমাতেও সেই ধারাটা বজায় রাখা হয়েছে।
বড় পর্দায় অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলির স্কেল স্বাভাবিকভাবেই আরও বড় মনে হয়। বন্দুকের লড়াই, মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং চেজ সিকোয়েন্সগুলি সিরিজের দর্শকদের যথেষ্ট আনন্দ দেবে।
এর সঙ্গে রয়েছে পরিচিত ধরনের ঝাঁঝালো সংলাপ এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, যা ‘মির্জাপুর’-এর আবহকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তবে সমস্যা কোথায়?
ছবির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল রানটাইম এবং চিত্রনাট্যের গতি।
কিছু অংশে গল্পকে আরও সংক্ষিপ্ত করা যেত। বেশ কিছু দৃশ্য এবং সাব-প্লট মূল গল্পের গতি কমিয়ে দেয়। সিরিজে যেখানে চরিত্রগুলিকে ধীরে ধীরে বিকশিত করার সুযোগ ছিল, সিনেমায় সেই একই জিনিসকে তুলনামূলক কম সময়ে সামলাতে হয়েছে।
আর যারা ‘মির্জাপুর’-এর আগের সিজন দেখেননি, তাঁদের কাছে ছবির অনেক চরিত্র এবং সম্পর্ক কিছুটা কনফিউজিং লাগতে পারে।
দর্শকের জন্য Verdict
আপনি যদি ‘মির্জাপুর’-এর পুরনো ফ্যান হন, তাহলে এই সিনেমা আপনার জন্য বড় পর্দায় পুরনো স্মৃতির নতুন অভিজ্ঞতা।
কালীন ভাইয়ার দাপট, গুড্ডু পণ্ডিতের রাগ, মুন্নার পাগলামি, রবি কিশনের নতুন এনার্জি—সব মিলিয়ে বিনোদনের উপকরণ কম নেই।
তবে এটিকে একেবারে নিখুঁত সিনেমা বলা যাবে চিত্রনাট্য। গল্পকে আরও টাইট করা গেলে এবং কিছু অংশের গতি বাড়ানো গেলে অভিজ্ঞতাটা আরও শক্তিশালী হতে পারত।
শেষ কথা:
‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ নতুন করে মির্জাপুরের সাম্রাজ্য তৈরি করে না, বরং পুরনো ‘ভৌকাল’-কেই বড় পর্দায় আরও জোরে ফিরিয়ে আনে। সিরিজের ভক্তদের জন্য তাই এটি একবার দেখার মতো—বিশেষ করে যদি কালীন ভাইয়া আর গুড্ডু পণ্ডিতকে বড় পর্দায় আবার দেখতে চান।
নিজস্ব প্রতিবেদন | বিনোদন