Awarapan 2

২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আওয়ারাপন’ শুধু একটি crime drama ছিল না, বরং ইমরান হাশমির কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছবি হয়ে উঠেছিল। সেই ছবির অন্ধকার, একাকীত্ব, ভালোবাসা এবং redemption-এর আবহ আজও দর্শকের মনে রয়ে গিয়েছে। প্রায় দুই দশক পর ‘আওয়ারাপন ২’-এ আবারও ফিরেছেন শিবম পণ্ডিত। ফলে প্রত্যাশার চাপ যে অনেকটাই বেশি ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এই sequel কি প্রথম ছবির আবেগ ও গভীরতার কাছে পৌঁছতে পেরেছে?

গল্প: অতীতের ক্ষত, বর্তমানের মিশন

‘আওয়ারাপন ২’-এর কেন্দ্রে আবারও শিবম। অতীতের যন্ত্রণা তাকে এখনও তাড়া করে বেড়ায়। নিজের জীবনের অনেকটা সময় অন্ধকার জগতের মধ্যে কাটানোর পরও তার ভিতরের মানবিকতাটা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।

এবার একটি বিপজ্জনক মিশনের সূত্রে শিবম জড়িয়ে পড়ে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। একটি ছোট মেয়েকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই মিশন ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে। দায়িত্ব, বিবেক, অপরাধবোধ এবং ভালোবাসার মধ্যে আটকে যায় শিবম।

চিত্রনাট্য শুরুতে বেশ ভালো pace ধরে রাখে। অ্যাকশন, রহস্য এবং চরিত্রের অতীত—তিনটি দিককে পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গল্প কিছুটা predictable হয়ে যায়। কিছু জায়গায় আরও tight editing থাকলে ছবির impact বাড়তে পারত।

ইমরান হাশমি: ছবির আসল শক্তি

‘আওয়ারাপন ২’-এর সবচেয়ে বড় USP নিঃসন্দেহে ইমরান হাশমি।

শিবম চরিত্রটির মধ্যে যে emotional baggage রয়েছে, সেটি ইমরান অত্যন্ত সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। এখানে বড় বড় dialogue-এর চেয়ে তাঁর চোখ, expression এবং silence অনেক বেশি কথা বলে।

বিশেষ করে চরিত্রটির একাকীত্ব এবং ভিতরের দ্বন্দ্বের দৃশ্যগুলোতে ইমরানের অভিনয় ছবিটাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। তাঁকে দেখে বারবার পুরনো ‘আওয়ারাপন’-এর কথা মনে পড়ে যায়, আর এখানেই ছবিটি সবচেয়ে বেশি nostalgia তৈরি করে।

Awarapan 2 Banner

দিশা পাটানি: শুধু glamour নয়

দিশা পাটানি এই ছবিতে Zara চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর চরিত্রটি গল্পের emotional layer তৈরি করার পাশাপাশি শিবমের ব্যক্তিত্বের অন্য একটি দিক সামনে আনে।

তবে চরিত্রটির আরও কিছুটা depth থাকলে তাঁর সঙ্গে দর্শকের emotional connection আরও শক্তিশালী হতে পারত। অভিনয়ে দিশা ভালো, কিন্তু চিত্রনাট্য তাঁকে যতটা জায়গা দিতে পারত, ততটা দেয়নি।

শাবানা আজমি ও supporting cast

শাবানা আজমির মতো শক্তিশালী অভিনেত্রীর উপস্থিতি বরাবরই ছবির credibility বাড়ায়। এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে তাঁর মতো অভিনেত্রীর চরিত্রকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা গেলে গল্পের dramatic weight আরও বাড়তে পারত।

অন্যদিকে villainous চরিত্রগুলির মধ্যে যথেষ্ট intensity রয়েছে। বিশেষ করে শিবমের বিপরীতে থাকা চরিত্রগুলির সঙ্গে তাঁর সংঘাত ছবির action portion-কে engaging করে রেখেছে।

Action ও Visual Treatment

‘আওয়ারাপন ২’ action-এর দিক থেকে প্রথম ছবির তুলনায় অনেক বেশি ambitious। Bangkok-এর backdrop, chase sequence এবং fight sequences ছবিকে commercial flavour দিয়েছে।

তবে ছবির action কখনও কখনও গল্পের emotional অংশকে ছাপিয়ে যায়। ‘আওয়ারাপন’-এর মূল শক্তি ছিল তার emotion; sequel-এ action-এর পরিমাণ বাড়লেও সেই emotional balance সবসময় সমানভাবে বজায় থাকেনি।

গান: nostalgia ফিরলেও পুরনো magic?

‘আওয়ারাপন’ বললেই প্রথমে মনে পড়ে তার গান। ‘To Phir Aao’ কিংবা ‘Tera Mera Rishta’-র মতো গান আজও শ্রোতাদের কাছে বিশেষ জায়গা ধরে রেখেছে।

তাই sequel-এর music নিয়ে প্রত্যাশা ছিল স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। নতুন ছবির গানগুলি mood তৈরি করতে সক্ষম হলেও প্রথম ছবির soundtrack-এর মতো দীর্ঘস্থায়ী emotional impact তৈরি করতে পারেনি।

তবুও background score এবং melancholic musical treatment ছবির dark atmosphere-এর সঙ্গে ভালোভাবে মিশেছে।

কোথায় পিছিয়ে ‘আওয়ারাপন ২’?

সবচেয়ে বড় সমস্যা হল—প্রথম ছবির সঙ্গে তুলনা।

একটি sequel হিসেবে ছবিটির নিজস্ব গল্প ও conflict রয়েছে। কিন্তু দর্শক যখন ‘আওয়ারাপন ২’ দেখতে বসবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই ২০০৭-এর ছবির সঙ্গে তুলনা করবেন। আর সেখানেই ছবিটি কিছুটা চাপের মুখে পড়ে।

প্রথম ছবির emotion ছিল অনেক বেশি raw এবং personal। দ্বিতীয় ছবিতে সেই জায়গার সঙ্গে action-thriller element যোগ হয়েছে। ফলে ছবিটি entertaining হলেও সবসময় হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারেড়িয়ে যেতে পারে না।

দ্বিতীয়ার্ধের pacing এবং কিছু predictable plot development-ও ছবির দুর্বলতার জায়গা।

Final Verdict

‘আওয়ারাপন ২’ নিখুঁত sequel নয়। কিন্তু এটিকে শুধুই পুরনো ছবির nostalgia বিক্রি করার চেষ্টা বললেও ভুল হবে।

ইমরান হাশমির শক্তিশালী অভিনয়, dark atmosphere, action এবং পুরনো চরিত্রের প্রত্যাবর্তন—সব মিলিয়ে ছবিটি একবার দেখার মতো experience তৈরি করে।

যারা ২০০৭-এর ‘আওয়ারাপন’-এর সঙ্গে emotional connection অনুভব করেন, তাঁদের জন্য এই ছবির appeal নিঃসন্দেহে বেশি। তবে প্রথম ছবির মতো গভীর emotional impact এবং soundtrack-এর magic আশা করলে কিছুটা হতাশা আসতে পারে।

এক কথায়:

“শিবম ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু পুরনো ক্ষত আর নতুন লড়াইয়ের মাঝেও ‘আওয়ারাপন’-এর সেই হারিয়ে যাওয়া magic পুরোপুরি ফিরল না।”

আমাদের Rating: ⭐⭐⭐½/5