ঝলমলে ফিডের আড়ালে গভীর একাকীত্ব

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তীর মতো এক প্রাণোচ্ছল, হাসিখুশি এবং জীবপ্রেমী মানুষের আকস্মিক আত্মহত্যার খবর আমাদের স্তব্ধ করে দেয়। যে মেয়েটির বায়োতে লেখা "জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর", যে নিজের সন্তানের মতো অবলা প্রাণীদের আগলে রাখত, সে কেন জীবনের পথটা এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে দিল? পরিচালক অনীক দত্তের পর এই একই সপ্তাহে আরও এক তরতাজা প্রাণের এভাবে নিভে যাওয়া আমাদের সমাজের এক নির্মম বাস্তবকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

আসলে চারপাশের এই চিল চিৎকার, ট্রেন্ড, রিলস স্ক্রল আর যান্ত্রিক ব্যস্ততার ভিড়ে আমরা সবাই ভীষণ আত্মকেন্দ্রিক ও একাকী হয়ে উঠছি। আমরা সারাক্ষণ ভার্চু্যালী সংযুক্ত, অথচ বাস্তবে ভীষণ বিচ্ছিন্ন। অদ্ভুত বিষয় হলো, আজ মানুষের মনের কথা শোনার মতো মানুষ নেই বলেই সে বেছে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার AI মডেলগুলোকে। আমরা বন্ধুদের আড্ডায় বসেও ফোনের স্ক্রিনে মগ্ন থাকি, কিন্তু পাশে বসা মানুষটার নিঃশব্দ কান্না শুনতে পাই না। শেষ কবে কাউকে মন খুলে জিজ্ঞেস করেছি, "তুই সত্যিই ভালো আছিস তো?" আজকাল মানুষ দুদিন মন দিয়ে কথা শুনে তৃতীয় দিনেই বিরক্ত হয়ে যায়। কিন্তু শরীরের ক্ষত চোখে দেখা গেলেও মনের ক্ষতগুলো নীরবে মানুষকে শেষ করে দেয়।

ইমরান খানের সেই উক্তিটি মনে পড়ে—মানুষ তখনই মারা যায় যখন পৃথিবীর কাছে তার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়, বা তার কাছে পৃথিবীর। হয়তো অনীক দত্ত বা সায়নীও শেষ মুহূর্তে কারও কাছে হাত বাড়িয়েছিলেন, কেউ একটু জড়িয়ে ধরে বলুক "সব ঠিক হয়ে যাবে"—এমনটাই চেয়েছিলেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলমলে হাসির আড়ালে থাকা সেই গভীর অন্ধকার আমরা কেউ বুঝতে পারিনি। সবাই শক্ত থাকার অভিনয় করতে করতে একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই আজ সময় এসেছে আমাদের আরও একটু নরম হওয়ার, দুনিয়াটাকে একটু সহানুভূতির চোখে দেখার। আপনার কাছের মানুষটার আচরণ বদলে গেলে তাকে ‘ড্রামা’ না বলে, একটু সময় দিন, তার পাশে বসুন। সায়নী, তারাদের দেশে তুমি ভালো থেকো, আলো হয়ে থেকো। এই রুক্ষ পৃথিবী তোমাকে হয়তো শুধু অন্ধকারই দিয়েছে, ওপারে না হয় শুধুই আলো হোক।

সংগৃহীত