শুধু মানিয়ে নেওয়া জীবন নয়, রেড সিগন্যাল চেনাই আসল মুক্তি
সংবাদপত্রের পাতায় বা চারপাশের চেনা গণ্ডিতে যখনই কোনো মেয়ের ভালোবাসার মানুষের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার খবর আসে, বুকটা কেঁপে ওঠে। মনে হয়, ইতিহাস তো একই রয়ে গেল, আমরা তবুও সচেতন হতে পারলাম না! অথচ একটু খেয়াল করলেই সম্পর্কের ‘রেড সিগন্যাল’গুলো চেনা যায়। রাগ বা মন খারাপের মাথায় মানুষ দুটো খারাপ কথা বলতেই পারে, কিন্তু সেই অপমানের যখন পুনরাবৃত্তি ঘটে, যখন গায়ে হাত তোলা বা দিনের পর দিন মিসবিহেভ করাটা অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন বুঝতে হবে সেই সম্পর্কটা আর বেঁচে নেই। অনেক ছেলের মায়েরা বলেন, "ওর মাথা গরম হলে ঠিক থাকে না, তুমি একটু মানিয়ে নাও।" কিন্তু প্রশ্ন হলো, মেয়েটি মাথা গরম করে পাল্টা আঘাত করলে সেই পরিবার মেনে নেবে তো? "একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে"—এই ভুল কনসেপ্ট এবং জোর করে কারও জীবনে থাকার মানসিকতা থেকে মেয়েদের বেরিয়া আসতে হবে। যে ইগনোর করছে, তার আগ্রহ যে ফুরিয়েছে তা মেনে নিয়ে, নিজের প্রাণ ও মানসম্মান থাকতে থাকতেই সেই হেলদি নয় এমন রিলেশনশিপ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। হ্যাঁ, কষ্ট হবে, কিন্তু প্রাণটা তো বাঁচবে! কোনো মেয়ের চলে যাওয়ায় সেই অত্যাচারী মানুষটার কিছু এসে যায় না, কয়েকদিন জেল খেটে সে হয়তো আবার বিন্দাস ঘুরে বেড়াবে, কিন্তু চিরকালের মতো শেষ হয়ে যাবে একটা বাবা-মায়ের জীবন।
এই কঠিন সত্যিটা আমি আজ জ্ঞান দেওয়ার জন্য বলছি না, বলছি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে। আমিও একসময় এরকম একটা বিষাক্ত বিবাহিত সম্পর্ক থেকে নিজের প্রাণের ঝুঁকি টের পেয়ে ঠিক সময়ে বেরিয়ে এসেছিলাম। আর আমার এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন আমার বাবা-মা, যাঁরা আমায় আর কখনো সেখানে ফিরে যেতে দেননি। এখানেই আসে অভিভাবকদের ভূমিকা। বাবা-মাদের উচিত সন্তানের বন্ধু হওয়া, তার ভুলগুলোকেও প্রথমে মন দিয়ে শোনা। সেই উত্তপ্ত মুহূর্তে শাসন বা জ্ঞান নয়, মেয়েটির প্রয়োজন একটু সহানুভূতি আর সাহচর্য। বকাবকি করলে সন্তানরা নিজেদের গুটিয়ে নেয় এবং একসময় চুপ করতে করতে চরম কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে। আর যেন কোনো মায়ের কোল খালি না হয়, আর যেন কোনো প্রাণ এভাবে ঝরে না যায়—এই প্রার্থনার পাশাপাশি, সমাজ ও আইনের দরবারে সেইসব পাপীদের কঠিনতম শাস্তি হওয়াই আজ একমাত্র কাম্য।
সংগৃহীত