কবিতার ঠিকানা
পবিত্র গায়েন
আমি শব্দের মাটিতে নেমে ধীরে ধীরে চাষ করি—
নিঃশব্দ জল ঢালি, অন্তরের ধ্যান মিশিয়ে দিই,
আর প্রতিটি যন্ত্রণাকে মাটির গভীরে সার বানিয়ে রাখি।
ভাবি—
এইবার তবে গড়ে তুলি এক নিখুঁত বেড়া,
যেখানে আমার কবিতা শুধু আমারই হয়ে থাকবে,
কারও স্পর্শে বদলে যাবে না তার স্বর।
কিন্তু ফসলেরা বিদ্রোহী—
একটি লাইন হঠাৎ বাতাসে ভেসে যায়,
একটি চিত্রকল্প অন্য কারও স্বপ্নে আশ্রয় নেয়,
দুটি শব্দ নিঃশব্দে পাড়ি দেয় অচেনা হৃদয়ের ভেতর।
আমি তখন দড়ি হাতে দাঁড়িয়ে—
নিজেকে প্রহরী ভেবে,
হঠাৎ দেখি—
আকাশের গভীর নীল ছিঁড়ে এক কিশোরী নক্ষত্র নেমে এসেছে কাছে।
তার চোখে ছিল অদ্ভুত শান্তি—
সে মৃদুস্বরে বলে—
“কবিতাকে বেঁধে রেখো না,
আমি তার পাশে দাঁড়াতে এসেছি, তাকে মুক্ত করে দিতে।”
তখন ধীরে ধীরে বুঝি—
কবিতা কোনো জমি নয়, কোনো মালিকানাও নয়;
সে এক চলমান আলো, যে নিজের পথ নিজেই খুঁজে নেয়—
আর ভালোবাসার ভিতরেই নিজের ঠিকানা লিখে যায়।