পাগলামির মুক্তিসূত্র
"জীবন যখন একঘেয়েমির শৃঙ্খলে বন্দি, তখন একটুখানি পাগলামিই পারে সব ক্লান্তি ভুলিয়ে নতুন করে বাঁচার পথ দেখাতে! 🕶️✨"
আজ সকাল থেকেই রিমির মেজাজটা ভীষণ খিঁচড়ে আছে। টানা কাজের চাপ, ল্যাপটপের আলো আর শহরের এই একঘেয়ে যান্ত্রিক জীবন তাকে একদম হাঁপিয়ে তুলেছে। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে সে ভাবছিল, জীবনের এই প্রতিদিনের একঘেয়ে রুটিন কি আর ভাঙবে না?
হঠাৎই তার মাথায় এক অদ্ভুত চিন্তার উদয় হলো। আর কোনো হিসেব-নিকাশ নয়, কোনো দায়িত্বের বোঝা নয়—এখন শুধু নিজের মতো করে বাঁচতে হবে!
সে সোজা আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। বেশ কিছুটা জনসন বেবি পাউডার নিয়ে ডলে ডলে গলায় মেখে নিল, ঠিক ছোটবেলায় মা যেমন মাখিয়ে দিতেন। ড্রয়ার থেকে টিপের পাতাটা বের করে কপালে আঁকল একটা বড় গোল কালো ফোঁটা। আর সবশেষে, ঘরের ভেতরেই চোখে গলিয়ে নিল তার প্রিয় গাঢ় কালো সানগ্লাসটা। mirror-এ নিজের এই অদ্ভুত আর মিষ্টি রূপ দেখে রিমিও আর হাসি চেপে রাখতে পারল না।
ব্যাস! ব্যাগে মোবাইল আর ওয়ালেটটা পুরে নিয়ে দরজায় চাবি লাগিয়ে সে বেরিয়ে পড়ল রাস্তায়。
রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে মানুষজন তার দিকে বেশ অবাক হয়ে তাকাচ্ছিল। কেউ কেউ হয়তো তাকে পাগলও ভাবছিল, কিন্তু রিমির তাতে বিন্দুমাত্র এসে-গেল না। আজ সে কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বের হয়নি। আজ তার একটাই লক্ষ্য—"দুই চোখ যেদিকে যায়, চলে যাওয়া।"
হাঁটতে হাঁটতে সে গিয়ে পৌঁছাল শহরের এক পুরোনো পার্কে। সেখানে গিয়ে ঘাসের ওপর বসে হাওয়া খেতে খেতেই সে ঝালমুড়ি খেল, রাস্তার ধারের দোকান থেকে লাল চা খেল, আর মনের আনন্দে বাচ্চাদের মতো আইসক্রিম চাটতে চাটতে ঘুরে বেড়াল। চোখ বন্ধ করে ঠান্ডা বাতাস আর স্বাধীনতাকে যেন প্রতিটা নিঃশ্বাসে টেনে নিল সে।
সারাদিন নিজের খেয়ালে ঘুরে সন্ধে নামার মুখে when সে বাড়ি ফিরল, তখন তার মনে কোনো ক্লান্তি নেই। মনটা এক অদ্ভুত হালকা শান্তিতে ভরে উঠেছে। সে বুঝল, জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে মাঝেমধ্যে কোনো বড় পরিকল্পনার দরকার হয় না—অল্প একটু শিশুসুলভ পাগলামি আর একাকিত্ব উপভোগের ইচ্ছাই মনকে আবার নতুন করে সতেজ করে তোলার জন্য যথেষ্ট!
সংগৃহীত