চিকিৎসকেরা বলেছিলেন...
"চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, হয়তো ১৩তম জন্মদিনটিও দেখা হবে না তার। কিন্তু মিশিয়েল ভান্দেওয়ের্ট বেঁচেছিলেন ২৮ বছর পর্যন্ত।" 🌟
চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, হয়তো ১৩তম জন্মদিনটিও দেখা হবে না তার। কিন্তু মিশিয়েল ভান্দেওয়ের্ট বেঁচেছিলেন ২৮ বছর পর্যন্ত। আর জীবনের প্রতিটি বছরই নিজের মতো করে পূর্ণ করে তুলেছিলেন।
২০২৬ সালের ১০ আগস্ট ২৮ বছর বয়সে মারা যান মিশিয়েল। শৈশবেই তার প্রোজেরিয়া ধরা পড়ে। এটি বিরল এক জিনগত রোগ, যার কারণে শরীরে স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যন্ত দ্রুত বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা দেয়।
এই রোগের কোনো নিরাময় নেই। মিশিয়েলের পরিবারকে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, তিনি সম্ভবত ১২ বছরের বেশি বাঁচবেন না। কিন্তু সেই আশঙ্কাকে বহু বছর পেছনে ফেলে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রোজেরিয়ায় আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের একজন হয়ে ওঠেন।
বেলজিয়ামের ডিপেনবেকে জন্ম নেওয়া মিশিয়েল কখনোই রোগকে নিজের পরিচয়ের একমাত্র অংশ হতে দেননি।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি নিজের স্মৃতিকথা প্রকাশ করেন। বইটির নাম ছিল ‘ইক বেন মিশিয়েল’, যার অর্থ ‘আমি মিশিয়েল’। সেখানে স্বল্প আয়ুর আশঙ্কা নিয়ে বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা এবং প্রোজেরিয়ার সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনের লড়াই নিয়ে খোলামেলা লিখেছিলেন তিনি。
পরে ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও টুইচ মিলিয়ে ৯০ হাজারের বেশি অনুসারী তৈরি হয় তার। নিজের দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি গেমিং বিষয়ক কনটেন্টও শেয়ার করতেন মিশিয়েল।
নিজের জীবনকে কখনো সাজানো বা নিখুঁত করে দেখানোর চেষ্টা করেননি তিনি। সেই স্বাভাবিক ও অকপট উপস্থিতিই মানুষকে তার প্রতি টেনে নিয়েছিল।
‘হাউ টু বি অ্যালাইভ: অ্যাম্বার অ্যান্ড মিশিয়েল’ নামের একটি প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায় তার গল্প। সেখানে মিশিয়েল এবং তার ২০ বছর বয়সী বোন অ্যাম্বারের জীবন তুলে ধরা হয়। অ্যাম্বারও প্রোজেরিয়ায় আক্রান্ত।
প্রামাণ্যচিত্রটিতে দেখা যায়, কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও দুই ভাইবোন কীভাবে নিজেদের আগ্রহ, স্বপ্ন ও আনন্দ নিয়ে জীবনকে পূর্ণভাবে বাঁচার চেষ্টা করেছেন।
সেখানে নিজের মৃত্যুর পর কীভাবে তাকে স্মরণ করা হোক, সে বিষয়েও কথা বলেছিলেন মিশিয়েল। নিজের শেষকৃত্যে কোন গান বাজানো হবে, সেটিও বেছে রেখেছিলেন। তার আরেকটি ইচ্ছা ছিল, প্রিয় ফুটবল ক্লাব কেআরসি গেঙ্কের স্টেডিয়ামে যেন শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।
মৃত্যুর পর সেই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানায় ক্লাবটি। কেআরসি গেঙ্ক ঘোষণা করে, তাদের মাঠেই মিশিয়েলের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে。
তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রদ্ধা জানায় কেআরসি গেঙ্ক। ক্লাবটি জানায়, মিশিয়েলের সাহস ও ইতিবাচক মানসিকতা অনেক মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা ছিল।
ভক্ত এবং সহকর্মী স্ট্রিমাররাও তাকে স্মরণ করেন। একজন তাকে ‘বিশ্বের সেরা প্রো গেমার’ এবং অসাধারণ একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ডিপেনবেকের মেয়রও বলেন, মিশিয়েল যেভাবে জীবন কাটিয়েছেন, তা দেখলে তার প্রতি শুধু শ্রদ্ধাই জন্মায়।
সংগৃহীত