গিরিবালা দেবী ও তাঁর ছেলের বউ মহাশ্বেতার সম্পর্কটা আর পাঁচটা সাধারণ শাশুড়ি-বউয়ের মতো ছিল না। মহাশ্বেতা মনে করত গ্রামের মানুষ গিরিবালা দেবী কিছুই বোঝেন না, শুধু শুধু মাতব্বরি করতে আসেন। তাই অভিমানে প্রায় চার বছর ধরে সে আর গ্রামের বাড়িতে পা রাখেনি। গিরিবালা দেবীও সব বুঝতেন, তাই আগ বাড়িয়ে কখনো কিছু বলতে যেতেন না।
কিন্তু সম্পর্কের এই দূরত্ব আরও এক ধাক্কায় বদলে গেল যেদিন গিরিবালা দেবী তাঁর এক বছর বয়সী নাতিকে দেখতে শহরে গেলেন। ফুটফুটে নাতিকে কোলে নিয়ে তিনি আনন্দিত হলেও, শিশুর মুখের কিছু অদ্ভুত শব্দ শুনে তাঁর বুকটা কেঁপে উঠেছিল।
সেই রাতেই তিনি ছেলে সনাতন ও বউ মহাশ্বেতাকে ডেকে এক অদ্ভুত এবং চরম নির্দেশ দিলেন—
"বাড়ির সব ইলেকট্রনিক্স গুডস ফেলে দাও! মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার... আজ রাতেই সব ফেলে দেবে। এমনকি ইলেকট্রিক লাইন কেটে দিয়ে স্যুইচগুলোও লুকিয়ে ফেলবে, যাতে ছেলে ওসব দেখতে না পায়!"
এই কথা শুনে আধুনিকমনস্কা মহাশ্বেতা এবং সনাতন দুজনেই প্রচণ্ড রেগে যায়। মায়ের এমন 'অযৌক্তিক' কথায় অপমানিত বোধ করে তারা পরের দিন সকালেই গিরিবালা দেবীকে গ্রামে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। এরপর থেকে ছেলের সাথে যোগাযোগ প্রায় বন্ধই হয়ে যায়। সনাতন ফোন করলেও কেমন যেন এক আতঙ্কে এক মিনিটের বেশি কথা বলত পরিচয়, নাতির কথা জিজ্ঞেস করলে শুধু বলত— "ভালো আছে।"
উদ্বেগ আর চিন্তায় গিরিবালা দেবীর রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল। এভাবে কেটে গেল দীর্ঘ ছয় মাস।
অবশেষে এক রাতে হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। ওপাশ থেকে ভেসে এল মহাশ্বেতার ভয়ে জড়ানো কণ্ঠস্বর... যা এতদিনের ভুল ধারণা আর জেদ এক নিমেষে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।
গল্পটির বাকি অংশ পড়তে আপনার কী মনে হয়, গিরিবালা দেবী শিশুর মধ্যে কী লক্ষ্য করেছিলেন? কমেন্টে জানান!
সংগৃহীত